তিতাসে শাহাবৃদ্বিতে প্রবাসীর অর্থ সহায়তা ৫০ হাজার টাকার হদিস নেই ও অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ হানিফ মিয়া, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
১২০
০০ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শাহাবৃদ্ধি গ্রামে গত ১৩ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা অর্থ সহায়তা পাঠান। কিন্তু সেই সহায়তা বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।প্রবাসী এমদাদুয়া ভূঁইয়ার পাঠানো অর্থের অর্ধেক ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছায়নি।প্রবাসী এমদাদুয়া ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি পাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১ লাখ টাকা পাঠান। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মজিদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজহার (হাজার মেম্বার) ওই টাকা গ্রহণ করেন।
কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা।অর্থাৎ বাকি ৫০ হাজার টাকার কোনো স্পষ্ট হিসাব নেই, বলছেন স্থানীয়রা।বাকি ৫০ হাজার টাকার রহস্য।এই বিষয়ে জানতে চাইলে মেম্বার আজহার বলেন,প্রবাসী এমদাদুয়া ভাইয়ের পাঠানো এক লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আমি পাঁচ পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছি। আর বাকি ৫০ হাজার টাকা আমাদের মাধ্যমে আমাদের এক গরিব আত্মীয়কে দিয়ে দিয়েছি।
তবে গ্রামবাসীরা এ ব্যাখ্যা মানতে রাজি নন।
তাদের প্রশ্ন—ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পাঠানো টাকা একজন ‘আত্মীয়’কে কেন দেওয়া হলো?
সেই ব্যক্তি কে? তাকে কেন লুকানো হচ্ছে?
তিনি আদৌ কোনো টাকা পেয়েছেন কি না—কোথাও কি তার প্রমাণ আছে?গ্রামবাসীদের মতে—
“এটা স্পষ্ট অনিয়ম। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঠানো টাকার অর্ধেক অন্য কারও হাতে চলে গেছে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”গ্রামবাসীর ক্ষোভ,গ্রামবাসীদের ভাষ্যে—যাদের ঘর জলে একেবারে শেষ, সেই পরিবারগুলোর নাম ব্যবহার করে টাকা আনা হয়েছে। কিন্তু অর্ধেক টাকার হদিসই নেই।”তারা আরও বলেন—ঘরহারা এই পরিবারগুলো এখনও কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অথচ তাদের নামে ওঠা সম্পূর্ণ অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি।এটা খুবই দুঃখজনক।”প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে গ্রামবাসীরা তিতাস উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—
“প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি টাকার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে তদন্ত করুন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবারের জন্য ওঠা পুরো অর্থ যেন তাদের হাতেই পৌঁছায়, তা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে নিশ্চিত করুক।