আলুর বীজ ও সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট বা কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। তিনি বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে আগামী ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত। কেউ সংকট তৈরির চেষ্টা করলে বা বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলুর বীজ ও সার সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন তিনি নিজেই।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে আলু উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য তুলে ধরায় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধানের কৌশল তুলে ধরলে প্রশাসনের পক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। তিনি আরও জানান, কৃষকরা যদি বিএডিসির সরবরাহ করা আলুর বীজ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হন, সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। আলুর বীজ ও সারের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে যে কেউ তথ্য দিলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অতি শীঘ্রই কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে ৪টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় আরও মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা এবং জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।