
শাহাদাৎ হোসেন সরকার
আশুলিয়ায় ‘ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা’র আসামি ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মোবারক হোসেনের গ্রেফতারের পর তার সম্পর্কে নতুন অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের পর ইদানীং তিনি বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনৈতিক সক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুরে আশুলিয়া বাজার সংলগ্ন গরুর হাট বটতলা থেকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মো. মোবারক হোসেনকে গ্রেফতার করে।
স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সময় তিনি আশুলিয়া থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং সে তাঁজপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।
গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ‘ছাত্র-জনতা হত্যা’ মামলার পাশাপাশি নতুন করে উঠে আসছে রাজনৈতিক ভিন্নমুখী কার্যকলাপ ও দেশ ত্যাগের প্রস্তুতির অভিযোগ।
বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
আওয়ামী সরকার পতনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিএনপির সাথে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে একটি বিকল্প রাজনৈতিক সক্ষতা বা অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বিদেশে পলায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে সাইদুল মোল্ল্যা নামে আরেক সাবেক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া জলিল উদ্দীন ভূঁইয়া (রাজন) নামে ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকে র্যাব গ্রেফতার করে, যার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
মোবারক হোসেনের গ্রেফতারের ঘটনায় আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নতুন অভিযোগগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এব্যাপারে মন্তব্য করে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি দুঃখজনক দিক তুলে ধরে। একটি দলের মাধ্যমে ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জনের পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা এবং শেষ মুহূর্তে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি—এগুলো ব্যক্তিস্বার্থই প্রমাণ করে।”
আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মোবারক হোসেনকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।
আশুলিয়া থানায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক যুবলীগ নেতার গ্রেফতার এবং মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত রাজনৈতিক দল পরিবর্তন ও পলায়নের চেষ্টার অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধজগতের জটিল সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে।
এই ঘটনাগুলো পুলিশের ক্রমাগত তৎপরতা ও অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হলেও, রাজনৈতিক সংযোগসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও স্বচ্ছ আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের গভীর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নজর রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।