
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক চট্রগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গৃহবধূ আমেনা বেগমের (২৪) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। স্বজনদের অভিযোগ, আমেনাকে জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ, শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন।
গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা বেগমের মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার বাহাদিরপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়িতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হাসপাতালে একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিওতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় আমেনা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর শাশুড়ি তাঁকে জোর করে বিষ খাইয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন,
স্বামী জানতে চাইলে তিনি শাশুড়ির কথা অস্বীকার করবেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শাশুড়িই তাঁকে বিষ খাইয়েছেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আমেনা বেগম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মীরপাড়া এলাকার শফিক আহমেদের মেয়ে। ২০২২ সালের শেষের দিকে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বাহাদিরপাড়া এলাকার বক্কর আহম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্বজনরা জানান, বিয়ের পর শুরুতে সংসার ভালোই চলছিল। তবে গত আট মাস ধরে শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ চলতি মাসের ৫ জানুয়ারি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানা-পুলিশ আমেনার স্বামী মোহাম্মদ ইউসুফকে আটক করেছে। তবে তাঁর শাশুড়ি ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে আমেনার মরদেহ বাবার বাড়ির সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুরুল হক জানান, মৃত্যুর আগে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তারা সংগ্রহ করেছেন এবং তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।
পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আমেনার স্বজনরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।