ইতিহাসের সাক্ষী ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ‘বিউটিফুল ভেড়ামারা’
মোঃ বাবুল আক্তার, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
৯৩
০০ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
পদ্মা নদীর পলিবিধৌত জনপদ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা। ব্রিটিশ আমলের রেল যোগাযোগের ঐতিহ্য, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প আর আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই উপজেলাটি আজ দেশের মানচিত্রে এক অনন্য নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর যান্ত্রিক অগ্রগতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন এখানে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে। ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন: হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু
ভেড়ামারার নাম নিলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ১৯১৫ সালে নির্মিত এই রেলসেতুটি আজও স্থাপত্যশৈলীর এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক প্রকৌশলের নিদর্শন লালন শাহ সেতু। গোধূলি বেলায় পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে এই দুই সেতুর সহাবস্থান যে দৃশ্য তৈরি করে, তাকে স্থানীয়রা ভালোবেসেই ডাকেন ‘বিউটিফুল ভেড়ামারা’। দেশের অন্যতম ‘পাওয়ার হাব’
ভেড়ামারাকে বলা হয় বাংলাদেশের বিদ্যুতের হৃৎপিণ্ড।
এখানে রয়েছে: ভেড়ামারা সম্মিলিত চক্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র (৪১০ মেগাওয়াট): যা জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র (HVDC): সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিদ্যুৎ বিনিময়ের এক আধুনিক করিডোর।
একের পর এক মেগা প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চলটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। জিকে সেচ প্রকল্প ও সবুজ বিপ্লব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প ভেড়ামারার গর্ব।
পাম্প হাউসের বিশাল পাইপ দিয়ে পদ্মার জল যখন কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সৃষ্টি হয় এক নয়নকাড়া দৃশ্য। এই প্রকল্পের কল্যাণে কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে ঘটে গেছে এক বিশাল কৃষি বিপ্লব। পর্যটন ও প্রাকৃতিক রূপ পদ্মার পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিশাল চর, বনানী আর নির্মল বাতাস ভেড়ামারাকে করে তুলেছে পর্যটনবান্ধব। বিশেষ করে শীতকালে চরের দৃশ্য এবং বর্ষায় উত্তাল পদ্মার রূপ দেখতে ভিড় জমান হাজারো মানুষ। এখানকার মানুষের আতিথেয়তা এবং স্থানীয় খাবার (বিশেষ করে পদ্মার ইলিশ ও দই) পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সীমাবদ্ধতা ও আগামীর সম্ভাবনা উন্নয়নের এই জোয়ারের মাঝেও নদী ভাঙন ও রেলওয়ে ল্যান্ড ব্যবস্থাপনার কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সাংবাদিক হিসেবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সঠিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হলে ভেড়ামারা হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম শীর্ষ ভ্রমণ গন্তব্য।
ভেড়ামারা কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস। দুই সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা পাম্প হাউসের যান্ত্রিক গর্জনে দেশের উন্নয়নের শব্দ শোনা—সব মিলিয়ে ‘বিউটিফুল ভেড়ামারা’ সত্যিই সৌন্দর্যের এক অপার আধার।