1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

সাংবাদিকের চোখে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা: সম্ভাবনা, ঐতিহ্য ও নাগরিক প্রত্যাশার চালচিত্র

মোঃ বাবুল আক্তার, নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৭৯ ০০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

​কুষ্টিয়া জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ভেড়ামারা। ভৌগোলিক অবস্থান, পদ্মার তীর ঘেঁষা জনপদ এবং দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ‘জিকে প্রজেক্ট’ (গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প) ও ভেড়ামারা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে এই অঞ্চলটি বরাবরই জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে একজন সাংবাদিকের বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে যখন ভেড়ামারাকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়, তখন এর যেমন বিপুল সম্ভাবনা ও ঐতিহ্য দৃশ্যমান হয়, ঠিক তেমনি কিছু নাগরিক সংকট ও উন্নয়ন-প্রত্যাশাও সামনে চলে আসে। ভেড়ামারাকে বলা হয় কুষ্টিয়ার শিল্প ও জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জিকে পাম্প হাউজ এই অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ভেড়ামারার এই সেচ প্রকল্পের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ব্রিটিশ আমলের প্রকৌশল বিস্ময় ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ এবং পাশেই নির্মিত ‘লালন শাহ সেতু’ ভেড়ামারাকে শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই অনন্য উচ্চতায় নেয়নি, বরং একে একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রেও রূপান্তর করেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে পদ্মার রূপ ও এই দুই সেতুর সৌন্দর্য দেখতে আসেন। পদ্মার পলিবিধৌত ভেড়ামারার মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানকার পান, ধান এবং তামাক চাষ দেশজুড়ে সমাদৃত। বিশেষ করে ভেড়ামারার ‘মিষ্টি পান’ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। সাংবাদিকের অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে দেখা যায়, এখানকার স্থানীয় বাজারগুলো বেশ চাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের এক বিশাল করিডোর গড়ে উঠেছে এখানে। সম্ভাবনার পাশাপাশি একজন সাংবাদিকের লেখনীতে ভেড়ামারার কিছু দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাও বারবার উঠে আসে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভেড়ামারার নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের। বিস্তীর্ণ এলাকায় তামাক চাষের কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। কৃষকদের বিকল্প লাভজনক ফসলের দিকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি চোখে পড়ে। ভেড়ামারা রেলবাজার এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপরিকল্পিত পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।ভেড়ামারার সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এই অঞ্চলের সঠিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু সংলগ্ন পদ্মার তীরকে পরিকল্পিত পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তুললে বিপুল রাজস্ব আয় সম্ভব। ভেড়ামারার ঐতিহ্যবাহী পান শিল্পকে বাঁচাতে চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সরকারি ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণ করে নদী তীরবর্তী মানুষের জানমাল রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিকের চিন্তায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা একাধারে যেমন সমৃদ্ধির প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি কিছু অবহেলারও চিত্র। সরকার যদি ভেড়ামারার ভৌগোলিক সুবিধা ও বিদ্যুৎ-কৃষির সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে পারে, তবে এটি শুধু কুষ্টিয়া নয়, গোটা বাংলাদেশের একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হতে পারে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।