কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নে বিএনপির এক সভায় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিকে ঘিরে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই সভার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।কেউ কেউ একে রাজনৈতিক সৌজন্য বললেও, বেশিরভাগ বিএনপির নেতা-কর্মী বিষয়টিকে দলীয় স্ট্যান্ডবাজী ও দলের আদর্শের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোজাম্মেল হক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং অতীতে শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনার কাছ থেকে নৌকার প্রতীক উপহার পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবী জুলাই বিপ্লবের পর থেকে মোজাম্মেল হক বিএনপি নেতা জাকির হাসানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার পক্ষে কাজ করার শর্তে মোজাম্মেল হক বিএনপি ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার চান্দেরচর ইউনিয়ন বিএনপির এক সভায় সভাপতি জাকির হাসানের উপস্থিতিতে তার আগমন নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈকত মোল্লা তার ফেইজবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দিব, কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপোস করব না।”
চান্দেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের খরচের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সামিল বলে মনে করা হচ্ছে।