নওগাঁর পোরশা থানায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ১৩৭ কেজি ওজনের একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক বিষ্ণুমূর্তি শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে মূর্তিটি হস্তান্তর করে পোরশা থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পোরশা থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। পোরশা থানাধীন ০১ নং নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী গ্রামের জনৈক রহমতের বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি পারিবারিক কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই বিশাল বিষ্ণুমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। কষ্টিপাথরের সদৃশ এই মূর্তিটির উচ্চতা আনুমানিক ৫৬ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৩৭ কেজি।
১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর বা জাদুঘরে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। দেশের প্রথম জাদুঘর হিসেবে পরিচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে মূর্তিটি বরেন্দ্র জাদুঘরে হস্তান্তরের অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করে পোরশা থানা পুলিশ। আবেদনের শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালত মূর্তিটি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালকের নিকট হস্তান্তরের আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের সেই আদেশের প্রেক্ষিতে আজ (২১ এপ্রিল) পোরশা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মূর্তিটি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. কাজি এম মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।