
মাগুরা প্রতিনিধি
রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত পড়ে আছে একটি ট্রাক, প্রচন্ড দুর্গন্ধ আসছিল ট্রাকের ভিতর থেকে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেখে ভেতরে গলিত লাশ—প্রথমে অপমৃত্যু বলেই ধরে নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সপ্তাহ পার না হতেই বেড়িয়ে আসে আসল সত্য। মাগুরা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তদন্তে উন্মোচিত হয় পরিকল্পিত ছিনতাই ও হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী কাহিনি।
গত ২০ মে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার কোলাবাজার এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। ট্রাকের ভেতরে গলিত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া গেলে কালিগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরিচয়হীন সেই লাশ ঘিরে তৈরি হয় রহস্য।
জানা যায়, নিহত ব্যক্তি যশোরের রাজারহাট এলাকার ইব্রাহিম কাজীর ছেলে ট্রাকচালক আব্দুর রহমান। তিনি গত ১৬ মে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্সের নারায়ণগঞ্জ থেকে ক্রয় করা ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল পরিবহনের দায়িত্ব পান। ওইদিন রাত ১০টার দিকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা মূল্যের তেলবোঝাই ট্রাক (যশোর ট-১১-১৩৪৬) নিয়ে মাগুরার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু ফরিদপুরের কামারখালি সেতু পার হওয়ার পর থেকে ভোজ্যতল বোঝাই ট্রাকসহ তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই পরিকল্পিতভাবে ট্রাকটি ছিনতাই করা হয় এবং চালক আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় কোনো সন্ধান না মেলায় ২৩ মে ব্যবসায়ী গোপাল সাহা বিষয়টি মাগুরা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। এরপরই সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল মাঠে নামে।
টানা দুই দিনের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অভিযান শেষে রোববার দিবাগত রাতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের কুদ্দুস মোল্যার ছেলে আজাদ হোসেন হিটলারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরও তিনজনকেও আটক করা হয়।
সোমবার বিকেলে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার লস্কারপুর বাজার, জাগলা, বুধইরপাড়া ও রাজিবের পাড়া বাজার থেকে ৪৫ ব্যারেল পূর্ণ এবং একটি ব্যারেলে থাকা অর্ধেক তেল, খালি ব্যারেল ০৭ টি এবং ৩ লক্ষ ৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।