ভেড়ামারায় হিসনা নদী খনন শুরু, লোকদেখানো নাকি সত্যিই মিলবে দখলমুক্তি?
মোঃ বাবুল আক্তার, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
৮১
০০ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভেড়ামারাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ও দাবিকৃত ঐতিহাসিক হিসনা নদী খননের কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২৫ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঘড়েশাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীটির একটি অংশে খননযন্ত্রের (এক্সকাভেটর) সাহায্যে মাটি কাটার কাজ চলছে। দীর্ঘদিন পর নদীর খনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, একই সাথে চরম ক্ষোভ ও শঙ্কা বিরাজ করছে। নদীটি প্রকৃত রূপ ফিরে পাবে কি না—তা নিয়ে সন্দিহান ভেড়ামারার সচেতন মহল।
স্থানীয়দের মূল দাবি: আগে দখলমুক্ত, পরে খনন
উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নদী খনন প্রক্রিয়ার সুফল পেতে হলে সবার আগে নদীর দুই পাড় সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করা জরুরি। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর জায়গা গ্রাস করে পাকা অট্টালিকা, বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। ফলে নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
নদীর ভেতরের শুধু কিছু মাটি কেটে দিলে কোনো লাভ হবে না। প্রভাবশালীরা যেভাবে নদীর বুক গিলে খেয়েছে, তাতে খনন করলেও নদীর প্রকৃত প্রবাহ ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। আমরা চাই শুধু লোকদেখানো খনন নয়, আগে সীমানা নির্ধারণ করে নদীকে পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হোক। প্রভাবশালীরা যেন এবার কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
ধোঁয়াশায় হিসনার ভবিষ্যৎ
খনন কাজ শুরু হলেও স্থানীয়দের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আদৌ কি হিসনা নদী সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হবে? নাকি বরাবরের মতোই আইনি জটিলতা আর প্রভাবশালীদের চাপের মুখে উচ্ছেদ অভিযান থমকে যাবে? নদীটি কি তার চিরচেনা রূপ ও নব্যতা ফিরে পাবে, নাকি এটি স্রেফ একটি লোকদেখানো ও দায়সারা খনন প্রকল্পে পরিণত হবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন পুরো ভেড়ামারাবাসী।