মুরাদনগরে একযুগ ধরে ডিআর স্কুলের ছাত্রাবাস এখন মরণফাঁদ
মোঃ হানিফ মিয়া, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
১২১
০০ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত, পরিত্যক্ত ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় একযুগ ধরে ব্যবহারের বাইরে থাকা ভবনটি এখন ভুতুরে, নোংরা ও বিপজ্জনক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি—এ ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার সুযোগে ভবনের অধিকাংশ দরজা, জানালার গ্রিল তুলে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতিকারীরা। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে, ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ভিতরটা ভরে গেছে আগাছা, ময়লা ও বর্জ্যে। সন্ধ্যা নামার পর এখানে বেড়ে যায় মাদকাসক্তদের আনাগোনা। অন্ধকার কক্ষগুলোতে মশা-মাছির উপদ্রবও অত্যধিক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “রাতে ভবনটির চারপাশে ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়; আর দিনে এটি শিশু-কিশোরদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” কারণ ভবনটির ঠিক পাশেই রয়েছে মুরাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিশুদের যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।স্কুলের বড় খেলার মাঠের পাশেই জীর্ণ ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। খেলা দেখতে এসে অনেক দর্শক ভাঙাচোরা ছাদে উঠে বসেন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা—যেকোনো সময় ছাদ ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে প্রাণহানি।
এছাড়া ভবনটির লাগোয়া রয়েছে মুরাদনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মুরাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। জরাজীর্ণ এ ভবনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরো পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা।দিনের বেলায় অনেক শিশু খেলতে খেলতে ভবনের আশপাশে চলে আসে। ভেতরে ভাঙা ইট, লোহার অংশ, গর্ত, ভেজা ফ্লোর ও আগাছা শিশুদের জন্য তৈরি করছে গুরুতর ঝুঁকি। রাতে বাড়ে কীটপতঙ্গ ও ক্ষতিকর প্রাণীর উপদ্রব।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এত বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে পরিত্যক্ত ভবন পড়ে থাকা দুঃখজনক ও বিপজ্জনক। দ্রুত এটি অপসারণ করে নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত হবে।”অভিভাবকরা জানান, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা অপসারণ করা জরুরি। কারণ যেকোনো সময় এটি ধসে পড়তে পারে।”এলাকাবাসীর অভিযোগ—বহু বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও শিক্ষা বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “ভবনটি ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি ব্যবহারযোগ্য মনে হয় তবে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন,স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদন জানালে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।