
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকার এম এ কাদের কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রিন্স ফার্মেসী। বাইরে থেকেই চোখে পড়ে রোগীদের দীর্ঘ সারি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে শিশু রোগীদের নিয়ে অভিভাবকদের ভিড় লেগেই থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, ঔষধ ব্যবসায়ী ও পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত সুভাষচন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে শিশু রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এলাকায় অনেকেই তাকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে চেনেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রোগী দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের জন্য প্রেসক্রিপশনও প্রদান করা হচ্ছে।
চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন কিংবা আইনগত অনুমোদন আছে কিনা
এ বিষয়ে সুভাষচন্দ্র রায়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিজেকে পল্লী চিকিৎসক (আরএমপি) বলে পরিচয় দেন। তবে চিকিৎসা প্রদানের বৈধতা, প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সাথে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন, রোগী দেখার অজুহাত দিয়ে সাংবাদিকদের পরে আসতে বলেন।
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, সহজলভ্যতার কারণে অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে এখানে আসেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের চিকিৎসা একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ ক্ষেত্রে যথাযথ ডিগ্রি, নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসা প্রদান জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
প্রিন্স ফার্মেসীতে কী ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং তা আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন গাজীপুর, ডাক্তার মোঃ মামুনুর রহমান জানান,একজন পল্লী চিকিৎসক জ্বর মাথাব্যথা সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে কমন কিছু ওষুধ দিতে পারে। প্রেসক্রিপশন করা বা প্রেসক্রিপশন করে ভিজিট নেওয়া, এন্টিবায়োটিক দেওয়া তাদের জন্য আইন বহির্ভূত কাজ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন অথবা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।