1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

পুঠিয়ায় গৃহবধূকে জাল তালাকনামা পাঠিয়ে হাত-পা বেঁধে  নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১২৬ ০০ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

 

 

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে  শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে  রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পালো পাড়া তাহেরের মোড় সাবেক মৃত এরশাদ চেয়ারম্যানের বাসায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ সামাদ বাদী হয়ে পুঠিয়া থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার পীরগাছা গ্রামের মোঃ সামাদের মেয়ের সঙ্গে পালোপাড়া তাহেরের মোড় এলাকার মোঃ মহিবুল্লাহ পবিত্রের গত ৩০ মার্চ ২০২৪ তারিখে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মহিবুল্লাহ পবিত্র ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই গৃহবধূর ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী সংসার করতে অনীহা প্রকাশ করে এবং নানা অজুহাতে স্ত্রীকে নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রায় দুই মাস আগে স্বামী মহিবুল্লাহ পবিত্র তার স্ত্রীর নামে একটি কথিত তালাকনামা পাঠায়। তবে সেই তালাকনামায় তালাকের তারিখ উল্লেখ করা হয় ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, অথচ তাদের বিয়ে হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৪ সালে। ফলে পুরো তালাকনামাটি জাল, বানোয়াট ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত প্রায় ছয় মাস ধরে ওই গৃহবধূ বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নেয়নি কিংবা ভরণপোষণের ব্যবস্থাও করেনি। পরে সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় গৃহবধূ আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলে গত ১২ মে ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী মহিবুল্লাহ পবিত্র ও তার বাবা মোস্তফা জামানের নির্দেশে পরিবারের অন্য সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম, কালশিরা ও ফুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাকে হাত-পা বেঁধে ঘরের খাটের পায়ার সঙ্গে বেঁধে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে সবাই পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ওই গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তদের পরিবারের এক সদস্য এসে ঘরের তালা খুলে দিলে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে দ্রুত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।
বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গুরুতর আঘাতের কারণে ভবিষ্যতে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, সুমন ও চামেলী বেগমসহ আরও অনেকে।
প্রতিবেশী শরিফুল ইসলাম জানান, মহিবুল্লাহ পবিত্র সিমলা আক্তার কে শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে করে, বিবাহের পর থেকেই পবিত্র পরিবারের পবিত্র মা এবং বাবা শিমলা কে কোনভাবেই পুত্রবধূ হিসেবে শান্তিতে রাখেনি। সবসময়ই তার বাবা এবং মা এই মেয়ের উপর নির্যাতন করত। গত মঙ্গলবারেও সন্ধ্যার সময় এই মেয়েকে ঘরের ভেতর খাটের মায়ার সাথে বেঁধে ইচ্ছা মত মারধর করেছে। আমি পবিত্র ও পবিত্র পরিবারের লোকজনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
প্রতিবেশী সুমন বলেন, একটা অবলা মেয়েকে  একা পেয়ে এভাবে মারধর করা উচিত হয়নি আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। এমন ঘটনা যেন আমাদের এই গ্রামে আর না ঘটে এমন শাস্তি তাকে দেওয়া হোক।
চামেলি বেগম জানান, শিমলা আক্তার খুবই ভদ্র এবং ভালো মেয়ে। ছেলের পরিবারের লোকজন ভালো মানুষ নয়। তারা এই মেয়েটাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু প্রতিবেশীদের কারণে পারেনি। আমরা পবিত্র ও পবিত্র পরিবারের অভিযুক্তদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগীর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসের ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি  তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুশীল সমাজের লোকজন বলছেন, পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখন দেখার বিষয় মহিবুল্লাহ পবিত্রর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।