জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় গণিত কুইজে রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে নওগাঁর ধামইরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছাঃ মেহবুবা বিনতে মুছা। ১৯৬৮ সালে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বরাবরের মতোই শিক্ষা ও বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে তাদের সুনামের ধারা অব্যাহত রেখেছে।
মেহবুবা বিনতে মুছা ধামইরহাট উপজেলার উত্তর চকযদু গ্রামের বাসিন্দা আবু ছালেহ মুহাম্মদ মুছা এবং মোসাঃ খালেদা বেগমের কন্যা। মেহবুবার এই অসাধারণ সাফল্যে বিদ্যালয়, পরিবার এবং পুরো উপজেলা জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মেহবুবার এই অনন্য সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধামইরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মেহবুবা প্রমাণ করেছে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো পর্যায়েই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা সম্ভব। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং আশা করি সে জাতীয় পর্যায়েও ধামইরহাটের নাম উজ্জ্বল করবে।
মেহবুবার পিতা আবু ছালেহ মুহাম্মদ মুছা বলেন, সন্তানের এমন সাফল্য যেকোনো বাবার জন্যই পরম পাওয়ার। মেহবুবা ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি ভীষণ আগ্রহী ছিল। ওর শিক্ষকেরা ওকে চমৎকারভাবে গাইড করেছেন, যার ফল আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই এবং আমার মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই, যেন সে বড় হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। সন্তানের এমন গৌরবময় অর্জনে মাতা মোসাঃ খালেদা বেগম আবেগপ্লুত হয়ে বলেন,
মায়ের কাছে সন্তানের এই আনন্দের মুহূর্তের চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না। ও যখন পড়ার টেবিলে মনোযোগ দিয়ে অঙ্ক করত, তখনই বুঝতাম ও বিশেষ কিছু করবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং মেহবুবার নিজের মেধার জোরেই আজ সে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হতে পেরেছে। আমি ওর শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এদিকে ধামইরহাটের এই কৃতি শিক্ষার্থীর গৌরবময় সাফল্যে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সকলের প্রত্যাশা, বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও মেহবুবা তার এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে এবং ধামইরহাটের জন্য আরও বড় গৌরব বয়ে আনবে।