1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

মুক্তাগাছায় ফার্মেসিগুলোতে ঔষধের মূল্যে চরম অনিয়ম ও কারসাজি – ভোক্তাদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে 

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৮০ ০০ বার পড়া হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

 

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বহু ফার্মেসিতে ঔষধের এমআরপি মূল্য অমান্য করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং বিভিন্ন অনিয়ম চলছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছে, এমআরপি-র তুলনায় একাধিক ওষুধ তিনগুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, প্যাকেটের ছবি তোলা নিষেধ করা হচ্ছে এবং কখনো কখনো সময়োত্তীর্ণ ওষুধও বিক্রির জন্য বাজারে ছাড়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তির ভেতর পড়ছেন।

এক ভোক্তা জানান, টেটরাসল নামক একটি ওষুধের এমআরপি ১২৫ টাকা হলেও এলাকায় কয়েকটি ফার্মেসিতে সেটি ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এমআরপি দেখা মাত্রই দোকানদার রাগ করেন, ফটো তুলতে দিচ্ছেন না এবং কখনো–কখনো বিক্রি পর্যন্ত বন্ধ করে দেন।” আরেক গ্রাহক দাবি করেন, চাহিদা বাড়লে ফার্মেসির দোকানীরা বিভিন্ন অজুহাতে দেখানোর পর বলেন, ভালো না লাগলে অন্য দোকান থেকে পণ্য নাও, ফলে ভোক্তা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে থাকে।

ভোক্তা সূত্রগুলো আরও জানায়, কিছু ব্যবসায়ী আয়-লাভ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য, সেম্পল প্যাকেট বা নকল পণ্য সস্তায় বিক্রি করেন এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ও শক্তিশালী ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে অবস্থা তুলনায় আরও সংকটাপন্ন; সেখানে তরুণ ও অনভিজ্ঞ কর্মীরাই অধিকাংশ ফার্মেসি চালাচ্ছে এবং অনেক দোকানে ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি—প্রায় ৭০ শতাংশ দোকানে লাইসেন্স নেই—ফলে সরকারী রাজস্ব হাতছাড়া হচ্ছে এবং সঠিক ঔষধবণ্টন নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। গ্রাম পর্যায়ে অনেক সময় প্রেসক্রিপশনও পর্যাপ্তভাবে পড়তে না পড়ায় ভুল ঔষধ দেওয়া সহ তাদের অপব্যবহার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাড়াতাড়ি ঘটছে।

ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করলে অনেক সময় গ্রাহকের সঙ্গে দুষ্কব্যবহারও দেখা যায়—কেউ কেউ ক্যাশ মেমো চাওয়া মাত্রই বিক্রয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। একজন ভোক্তা বলেন, “নিয়ম থাকলে এমআরপি মানা বাধ্যতামূলক—কিন্তু স্থানীয় বাজারে সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।”

এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন মুক্তাগাছার নাগরিকরা। তারা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস ও ড্রাগ রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। অনেকে দাবি করেছেন, অবৈধ, লাইসেন্সবিহীন ও অনভিজ্ঞদের সার্চ করে বন্ধ করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মুল্যসাম্য ও ওষুধের গুণমান নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও শক্তিশালী ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি হলে অযাচিত চিকিৎসা ও প্রতিরোধক বিরোধী সমস্যা বাড়ে। তাই সম্পূর্ণ টিস্যু ও ড্রাগ লাইসেন্স যাচাই, দোকানস্তরে নিয়মিত তদারকি, ভোক্তা সুরক্ষা আইন উদ্দীপিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধি সূত্রে বলা হয়েছে , সমস্যা সমাধানে ঔষধের সরবরাহ-শৃঙ্খলা, সঠিক মূল্য ও লাইসেন্স যাচাইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে তা কার্যকর করতে প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য। ভোক্তারা আবেদন করেছেন, কর্তৃপক্ষ যেনো দ্রুত অভিযান করে বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করে, এমআরপি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং মেয়াদউত্তীর্ণ ও নকল পণ্যের বাজার সরবরাহ বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।